ড্রাগন ফলের চাষ এখন দেশেই হচ্ছে। তাই এর দেখা মিলছে এখন প্রায় সবখানেই, ড্রাগন ফল দুই ধরনের হয়ে থাকে ভেতরের লাল ও সাদা। দেখতে ও খেতে চমৎকার হওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিগুণের দিক থেকেও সেরা এই ফল।
উপকারিতা:
১. পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ – এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, বি, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও ফাইবার থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী।
২. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ – এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (বেটালেইন, ফ্ল্যাভোনয়েড) দেহকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
৩. হজম শক্তি বাড়ায় – এতে থাকা ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে – ড্রাগন ফল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
৫. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় – এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ফাইবার কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
৬. ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় – ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
৭. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে – এতে থাকা ভিটামিন ও মিনারেল শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।
অপকারিতা:
১. অতিরিক্ত খেলে ডায়রিয়া হতে পারে – এতে প্রচুর ফাইবার থাকায় অতিরিক্ত খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে।
২. রক্তচাপ কমে যেতে পারে–নিম্ন রক্তচাপের রোগীদের জন্য অতিরিক্ত ড্রাগন ফল খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে।
৩. অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে – কারও কারও জন্য এটি অ্যালার্জির কারণ হতে পারে, যেমন চুলকানি, ফোলাভাব বা শ্বাসকষ্ট।
৪. রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে – ডায়াবেটিস রোগীদের এটি পরিমিত মাত্রায় খাওয়া উচিত, কারণ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যধিক কমিয়ে দিতে পারে।
৫. লাল প্রস্রাব বা মল হতে পারে – অতিরিক্ত পরিমাণে লাল ড্রাগন ফল খেলে প্রস্রাব বা মলের রঙ পরিবর্তিত হতে পারে, যা কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
পরিমাণমতো খেলে ড্রাগন ফল বেশ উপকারী। তবে অতিরিক্ত খেলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, তাই সঠিক মাত্রায় খাওয়াই ভালো।
ড্রাগন ফল (Dragon Fruit), যা পিতায়া বা স্ট্রবেরি পিয়ার নামেও পরিচিত, ক্যাকটাস পরিবারের একটি গাছের ফল। এটি মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা এবং ভারতসহ বিভিন্ন গ্রীষ্মপ্রধান দেশে জন্মায়। এর দুটি প্রধান প্রকার রয়েছে—সাদা শাঁসযুক্ত এবং লাল শাঁসযুক্ত, পাশাপাশি কমলা ও হলুদ জাতের ড্রাগন ফলও পাওয়া যায়।
ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, বি১, বি২, বি৩, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন এবং ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে।
* ভিটামিন সি – রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বক ভালো রাখে।
* আয়রন – রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায় এবং রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করে।
* ম্যাগনেসিয়াম – মাংসপেশি ও নার্ভের কার্যকারিতা উন্নত করে।
* ফাইবার – হজমশক্তি উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ড্রাগন ফলে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (যেমন: বেটালেইন, ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনোলিক এসিড) থাকে, যা দেহকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং বার্ধক্য রোধ করে।
* ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় – ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের বলিরেখা কমায়।
* ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে – অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
* যকৃতের জন্য উপকারী – লিভারকে ডিটক্সিফাই করে এবং সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
ড্রাগন ফলে ডায়েটারি ফাইবার থাকায় এটি হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক। এটি গুড ব্যাকটেরিয়া (প্রোবায়োটিক) বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক:
ড্রাগন ফল লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে না। তবে এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে: ড্রাগন ফলে মোনো-স্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে সাহায্য করে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ড্রাগন ফলে থাকা ভিটামিন সি ও ক্যারোটিনয়েড শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে।
এটি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ওজন কমাতে সাহায্য করে,লো-ক্যালরি এবং হাই-ফাইবার হওয়ায় এটি ওজন কমানোর জন্য কার্যকর। এটি দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা কমিয়ে রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।
হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী:
ড্রাগন ফলে থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতকে মজবুত রাখে এবং অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সাহায্য করে। ড্রাগন ফলের অপকারিতা,অতিরিক্ত খেলে ডায়রিয়া হতে পারে ড্রাগন ফলে প্রচুর ফাইবার থাকায় অতিরিক্ত খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়ার সমস্যা হতে পারে।
নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা তৈরি করতে পারে:
ড্রাগন ফল রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, তবে যারা নিম্ন রক্তচাপে (Hypotension) ভুগছেন, তাদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে। অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে
কারও কারও জন্য ড্রাগন ফল অ্যালার্জির কারণ হতে পারে,
১.ত্বকে চুলকানি
২.ফোলাভাব
৩.শ্বাসকষ্ট
রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমিয়ে দিতে পারে ডায়াবেটিস রোগীরা যদি নিয়মিত ড্রাগন ফল খান, তবে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক কমিয়ে দিতে পারে, যা বিপজ্জনক হতে পারে।
প্রস্রাব বা মলের রঙ পরিবর্তিত হতে পারে: লাল বা বেগুনি রঙের ড্রাগন ফল অতিরিক্ত খেলে প্রস্রাব বা মলের রঙ লালচে হতে পারে, যা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
কিভাবে ড্রাগন ফল খাবেন: সকালে খালি পেটে বা নাস্তার সাথে খেলে উপকারিতা বেশি পাওয়া যায়।
* সালাদ, স্মুদি, ফ্রুট বোল বা জুস হিসেবে খাওয়া যায়।
* অতিরিক্ত না খেয়ে দিনে ১-২টি খাওয়া নিরাপদ।
ড্রাগন ফল স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, যা হজমশক্তি উন্নত করে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হার্ট ও ত্বকের জন্য ভালো এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত খেলে ডায়রিয়া, নিম্ন রক্তচাপ, অ্যালার্জি ও হজম সমস্যা হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।